আপনার অবস্থান
মুলপাতা > অন্যান্য সংবাদ > বস্তিবাসীদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার নিরাপদ খাবার পানির সুবিধা পাচ্ছে

বস্তিবাসীদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার নিরাপদ খাবার পানির সুবিধা পাচ্ছে

শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার ওয়াটার এইড পরিচালিত এক প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ খাবার পানির সুবিধা পাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আজ বুধবার, অগাস্ট ২, ২০১৭ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার (ডব্লিওএএসএইচ) ওপর পরিচালিত এক প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরার সময় এ তথ্য দেয়া হয়।

ওয়াটার এইডের প্রকল্প ‘প্রমোটিং এনভাইরনমেন্টাল হেলথ ফর আরবান পুওর (পিহাপ)’র আওতায় শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনীমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর দেখা যায়, বস্তির ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার উন্নত পানির উৎস থেকে নিরাপদ খাবার পানি পাচ্ছে। ৯৯ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন মাথাপিছু ২০ লিটার বিশুদ্ধ পানি পেয়ে থাকেন, যা প্রকল্প শুরুর অবস্থা থেকে ৭৫ পার্সেন্টেজ পয়েন্ট বেশি।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের দেশীয় প্রতিনিধি ড. মো. খাইরুল ইসলাম জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার ১৭০টি বস্তিবাসীর ওপর ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি পরিচালিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ফিজিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিভাগের সচিব/সদস্য জুয়েনা আজিজ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ডার্স ওরস্ট্রম এবং এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান।

জুয়েনা আজিজ বলেন, “জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পারলেই সঠিক পয়োনিঃস্কাশন এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যাবে। এজন্য এনজিওগুলোকে বেশি বেশি সচেতনতামূলক প্রচারনা চালাতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “মানুষ স্বভাবতই একবার ভালো পরিবেশে বাস করা শুরু করলে আর আগের পরিবেশে ফিরে যেতে চায় না। বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে যদি বোঝানো যায় যে তারা সুস্থ থাকলে কাজ করতে পারবে, ভালো থাকবে আর অসুস্থ হলে বসে থাকতে হবে তাহলে তারা স্বাস্থ্য সচেতন হবে। তারা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করবে এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের শুরুতে বস্তিগুলোর ৩৩ শতাংশ পরিবার অবৈধ উৎস থেকে পানি ব্যবহার করতো যার হার প্রকল্প শেষে কমে মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শুরুতে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার উন্নত স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার করতো, যার হার প্রকল্প শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ শতাংশে। বর্তমানে মলত্যাগের পর ৮৮ শতাংশ বস্তিবাসী সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করে যা প্রকল্পের শুরুতে ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে প্রায় ৯৮ শতাংশ শিশু এবং ৯২ শতাংশেরও বেশি নারীর জন্য উন্নত ল্যাট্রিন সুবিধা রয়েছে। প্রকল্পের শুরুতে যা ছিল যথাক্রমে ৭ শতাংশ ও ৯ শতাংশ। বস্তির ৮০ শতাংশ পরিবার তাদের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মলত্যাগের নিরাপদ অভ্যাস গড়ে তুলেছে, যার হার প্রকল্পের শুরুতে ছিল মাত্র ৪০ শতাংশ।

দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে), কনসার্নড উইমেন ফর ফ্যামিলি ডেভলপমেন্ট (সিডব্লিওএফডি), নবলোক এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর রিয়েলাইজেশন অব বেসিক নিডস (এআরবিএএন) স্থানীয় এই চারটি এনজিও’র সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।

নিরাপদ খাবার পানি, উন্নত স্যানিটেশন এবং কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যবিধির অভ্যাস নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরিবেশগত স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট   জাতীয় লক্ষ্য এবং এমডিজি’তে (পরবর্তীতে এসডিজি) অবদান রাখাই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।

Comments

comments

একই ধরণের সংবাদ