আপনার অবস্থান
মুলপাতা > অন্যান্য সংবাদ > গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় ২৯ অক্টোবর খুলনায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় ২৯ অক্টোবর খুলনায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

gpবিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও খুলনায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খুলনা নৌকাবাইচ।

খুলনার নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’র (এনএসএসকে) আয়োজনে এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে  এই উৎসবের ১১ তম আসর। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো গ্রামীণফোন এ বিশাল আয়োজনের সঙ্গে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

বর্ণাঢ্য ও বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে আগামী ২৯ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে সকাল ১০টায় ডাক বাংলা/ ময়লা পাতা মোড় থেকে শিববাড়ি মোড় পর্যন্ত শোভাযাত্রা দিয়ে শুরু হবে দিনব্যাপি এই উৎসব।

দুপুর ২টায় রূপসা নদীর ১ নং কাস্টম ঘাটে মাননীয় অতিথিবৃন্দরা ফেস্টুন ও বেলুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করবেন।

দুপুর দুইটা ৩০ মিনিটে ১ নং কাস্টম ঘাটে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শুরু করা হবে। ১ নং কাস্টম ঘাট থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে খানজাহান আলী সেতু (রূপসা সেতু)-তে গিয়ে শেষ হবে।

এবার প্রতিযোগিতায় কয়রা, পাইকগাছা,তেরখাদা, কালিয়া, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর ও ফরিদপুর থেকে মোট ২৮ টি বাইচ দল অংশগ্রহণ করছেন।

নৌকার মাপভেদে বাইচকে দুইটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় দল রয়েছে ১৯ টি আর ছোট দল রয়েছে নয়টি। বড় দলের প্রথম বিজয়ীরা পাবেন এক লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় দল পাবেন ৬০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় দল পাবেন ৩০ হাজার টাকা।  অন্যদিকে ছোটদলের প্রথম বিজয়ী দল ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় দল ৩০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় দল পাবেন ২০ হাজার টাকা।

আজ খুলনা নৌকা বাইচ উপলক্ষে  আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটারনাল কমিউনিকেশন্স সৈয়দ তালাত কামাল, গ্রামীণফোনের হেড অব মার্কেটিং, খুলনা সার্কেল পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য, নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’র সভাপতি মোল্লা মারুফ রশীদ, এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম এবং প্রধান উপদেষ্টা শেখ আশরাফ-উজ-জামান সহ অন্যান্যরা।

মোল্লা মারুফ রশীদ জানান, “প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে খুলনার ১ নং কাস্টম ঘাটে লাখ-লাখ মানুষ উপস্থিত থাকবেন। রূপসা নদীর আশেপাশের এলাকা মেতে উঠবে প্রাণের উৎসবে ।  বাইচ প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা সাতটায় রূপসা ফেরিঘাটে প্রতিবারের মত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে থাকছেন জনপ্রিয় শিল্পী কর্নিয়া, ক্ষুদে গানরাজ খুলনার রাতুল ও অন্যান্য স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ”।

এর পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা। আগ্রহীরা ১১তম নৌকা বাইচের  প্রতিযোগিতার ছবি ফেসবুকে ‘Grameenphone 11th Khulna Boat Race’  ইভেন্ট পেজে নৌকা বাইচের দিন সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে আপলোড করতে পারবেন। বিজয়ীদের সেদিন সন্ধায় পুরস্কৃত করা হবে।

নৌকা বাইচ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে ইতোমধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন, খুলনা জেলা প্রশাসন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‍্যাব, নৌ পুলিশ, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বন বিভাগ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, ট্রলার মালিক সমিতিসহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতার বিষয়টি গ্রামীণফোন এবং নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র শ্রদ্ধাভরে উল্লেখ করে।

নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’র পক্ষ থেকে এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম বলেন, “সকলের ভালোবাসা, সহযোগিতা আর চেষ্টার ফলশ্রুতিতেই অনুষ্ঠিত হবে আমাদের খুলনাবাসীর এই সফল নৌকা বাইচ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা না পেলে আমরা খুলনাবাসীদের এই নৌকা বাইচ উপহার দিতে পারতাম না। অন্যদিকে এই আয়োজনে দেশের প্রধান টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন আমাদের পাশে রয়েছে এটাও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার।”।

গ্রামীণফোনের হেড অব মার্কেটিং, খুলনা সার্কেল পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য বলেন, “খুলনা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। নৌকা বাইচ-ই তার একটি অন্যতম উদাহরণ। এত বড় নৌকা বাইচ বাংলাদেশের আর কোথাও হয় বলে আমার জানা নেই। কাজের নতুন দায়িত্ব নিয়ে  খুলনায় আসার এই অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমি এই শহরকে ভালোবেসে ফেলেছি”।

গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটারনাল কমিউনিকেশন্স সৈয়দ তালাত কামাল বলেন, “বাইচকে সফল করার উদ্দেশ্যে প্রশাসন এবং সর্বস্তরের মানুষের যে অপরিসীম চেষ্টা তা সহজেই অনুমেয়। আমি গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে সকলকে তাঁদের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাই নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে এই আয়োজনে আমাদের সাথে নেয়ার জন্য”।

নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’র প্রধান উপদেষ্টা শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, “নদীমাতৃক বাংলাদেশ তার নদীর বহমানতা হারাতে বসেছে। নদীকে কেন্দ্র করে আমাদের যে জীবন ছিল তা এখন আবদ্ধ হয়েছে ব্যাস্ততার বেড়াজালে। নদীগুলো দূষিত হচ্ছে ক্রমাগত। তাই নদীকে কেন্দ্র করে আমাদের জীবনের আনন্দের একটি ঐতিহ্য নৌকা বাইচ পরবর্তী প্রজন্মেও ছড়িয়ে দেয়ার জন্য আমরা দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে”।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নৌকা বাইচ নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নৌকা বাইচের দিন, ২৯ শে অক্টোবর, সকাল ১০ টা থেকে ১ নং কাস্টম ঘাট, নতুন বাজার লঞ্চ ঘাট ও রূপসা ফেরিঘাটে সকল যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তা রক্ষার্থে পুরো এলাকায় আইন রক্ষাকারী বাহিনী নিযুক্ত থাকবেন।

এছাড়াও বিশেষ প্রয়োজনে মেডিকেল টীম ও ফায়ার সার্ভিস উপস্থিত থাকবেন। রূপসা ব্রীজে কোন গাড়ি পার্ক করা যাবে না।  ব্রীজে শুধুমাত্র মহিলা ও শিশুরা অবস্থান করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করতে আজ সংবাদ সম্মেলনে নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং গ্রামীণফোন-এর পক্ষ থেকে খুলনার আপামর জনগণকে এই বাইচ প্রতিযোগিতা নদীর দু’পাড়ে উপস্থিত থেকে ধৈর্য ও সতর্কতার সাথে উপভোগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।

Comments

comments

একই ধরণের সংবাদ