আপনার অবস্থান
মুলপাতা > শিল্প ও খাতসমূহ > বিদ্যুৎ ও জ্বালানী > রূপপুর প্রকল্প সাইট পরিদর্শনে রাশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

রূপপুর প্রকল্প সাইট পরিদর্শনে রাশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

রাশিয়া পরমাণু বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নরত ৩৪ জন শিক্ষার্থীর একটি প্রতিনিধিদল গতকাল রোববার নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সাইট পরিদর্শন করে। বাৎসরিক গ্রীষ্মের ছুটিতে এ সব শিক্ষার্থী বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের প্রকল্প সাইটের বিভিন্ন অংশে চলমান কর্মকাণ্ড ঘুরে দেখানো ও ব্যাখ্যা করা হয়। পরমাণু শক্তি কমিশন ও প্রকল্প কর্মকর্তারা তাদের দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিশদভাবে অবহিত করেন। ভবিষ্যতের পরমাণু বিশেষজ্ঞদের নির্মাণাধীন প্রকল্প সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, দেশে একটি উন্নত ও টেকসই পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণে প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। বাংলাদেশ সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাশিয়ায় বর্তমানে পরমাণু বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্যতার বলে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করার এবং অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন।

প্রকল্প সাইট পরিদর্শন শেষে রাশিয়ার মেফির (মস্কো ইঞ্জিনিয়ারিং ফিজিক্স ইনস্টিটিউট) নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্রী জাইমা হক তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পেলে নিজেকে গর্বিত মনে করব। আমি আমার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও মেধা দিয়ে দেশের পরমাণু শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে চাই।’

একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর কোর্সে অধ্যয়নরত মাসুদুর রহমান বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বের নিউক্লিয়ার এলিট ক্লাবে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত সন্তোষজনক এবং আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে দেশের স্বার্থে আমি নিজেকে পুরোপুরিভাবে বিলিয়ে দেব।’

পরমাণু শিল্পে মানবসম্পদ তৈরির অংশ হিসেবে এবং একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বর্তমানে রাশিয়ার বিখ্যাত ন্যাশনাল রিসার্চ নিউক্লিয়ার ইউনিভার্সিটি- মেফি’তে বর্তমানে ৪৩ জন বাংলাদেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা লাভ করছেন। চুক্তি মোতাবেক প্রতি বছর পরমাণু বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য রুশ সরকার মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্র“প অব কোম্পানিজ পাবনা জেলার রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। প্রকল্পে সর্বাধুনিক ৩+ প্রজন্মের দুটি বিদ্যুৎ ইউনিট থাকবে, যার প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১২,০০ মেগাওয়াট। খুব শিগগিরই মূল প্রকল্পের নির্মাণ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Comments

comments

একই ধরণের সংবাদ