আপনার অবস্থান
মুলপাতা > শিল্প ও খাতসমূহ > তথ্য প্রযুক্তি > প্রাইমারি লেভেল থেকে আইটি শিক্ষা দিবে সরকার:  জয়

প্রাইমারি লেভেল থেকে আইটি শিক্ষা দিবে সরকার:  জয়

আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য উন্নয়নের নতুন দিগন্তে উন্মোচন করতে হবে।মিনিস্টরিয়েল কনফারেন্সে এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

এতে পাঁচদেশের মন্ত্রীসহ ৭ দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।গ্লোবাল কনসান্টিং গ্রুপ এর জারফ মুনিরের সঞ্চালনায় এই কনফারেন্সে কি-নোট উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ।

কি-নোট উপস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত ভবিষ্যতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।এজন্য ৪র্থ শিল্পবিপ্লব নিয়ে এখন কথা বলার সময় এসেছে।কারণ, দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনছে।ফলে, অর্থনীতির বিকাশ ও শিল্পায়নও দ্রুত ঘটছে।২০২৫ সালের মধ্যেই ন্যানো ম্যাটেরিয়ালের বাণিজ্যিক ব্যবহার দেখা যাবে।এসব ন্যানো ম্যাটেরিয়ালস্টিলের চেয়েও ২০০গুন শক্ত কিন্তু চুলের চেয়েও পাতলা।থ্রিডি প্রিন্টেড লিভার ট্রান্স প্ল্যান্ট হবে।১০শতাংশের বেশি গাড়ি হবে চালকহীন।সরকার, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনেও এর প্রভাব দেখা যাবে।আগামীর বাংলাদেশ পৃথিবীর এসব উন্নত প্রযুক্তিগুলোকে গ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে।

সজীব ওয়াজেদ বলেন, সরকার বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করেছে।জনগণ তথ্যপ্রযুক্তির সুফলও ভোগ করছে।ফলে, বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ।এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডেই আপনারা দেখেছেন ড্রোন, বিশ্বের উন্নত রোবট সোফিয়াকে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে মোবাইল সুপার কম্পিউটিং, চালকহীন গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমান রোবট, নিউরো প্রযুক্তি রব্রেন, জেনেটিক এডিটিং দেখতে পাবে।প্রযুক্তির এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য আমাদেরকে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে।

নেটওয়ার্ক অ্যাড মিনিস্ট্রেটিভ ও প্রকৌশলীদের জন্য আগামী ভবিষ্যত হবে এবং এজন্য নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ বলেন, বর্তমানে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ থেকে দেওয়া হচ্ছে, ভাবিষতে প্রাথমিক স্তরেও আইসিটি শিক্ষা দেয়া হবে।দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে আইটি শিক্ষা প্রাইমারি লেবেল থেকে শুরু করার।

উপদেষ্টা বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর চেয়ে প্রাথমিকে আইটি শিক্ষা শুরু করা কঠিন হবেনা এ লেবেলে শুধুমাত্র লেখা শেখানো বা তাদের হোমওয়ার্ক ট্যাবের মাধ্যমে করা ইত্যাদি করা যেতে পারে।শিশুরা এগুলো খুব দ্রুত শেষে।তবে এখানে আমাদের রিসোর্স একটি চ্যালেঞ্জ, স্বল্পমূল্যে ট্যাবলেট ও কম্পিউটার দেশে তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।আশা করছি কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক থেকে এ শিক্ষা শুরু করা যাবে।

২০০৮ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হওয়ার পর বর্তমানে দেশের ৪০শতাংশ সরকারি সেবা ডিজিটাইজড হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আগামীতে বেশীরভাগ সেবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হবে।ভবিষ্যতে৮০শতাংশ সরকারি সেবা স্মার্টফোনের মাধ্যমে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা হবে।

এ সময় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন,  গত ৯ বছরে বাংলাদেশ দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে।আমরা দ্রুত এগিয়েছি।ভবিষতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছি।তরুণদের উদ্যোক্তা হতে পথ দেখাচ্ছি।৫ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি।

এ সময় কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য উপদেষ্টা ডায়োডোনিকালোম্বোকোলিবাডিবাং (DiedonneKalomboNkile), কম্বোডিয়ার ডাক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী কানচানমেটা (KanChannmeta) বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া কনফারেন্সে ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী দিনানাথডঙ্গায়েল (Dina NathDungyel), মালদ্বীপের সশস্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তা উপমন্ত্রী থরিক আলী লুথুফি (Thariq Ali Luthufi), ফিলিপাইনের আইসিটি অধিদপ্তরের পরিচালক নেস্টর এস বোঙ্গাটা (Nestor S. Bongata), অংশ নেন।

 

Comments

comments

একই ধরণের সংবাদ