আপনার অবস্থান
মুলপাতা > শিল্প ও খাতসমূহ > বিদ্যুৎ ও জ্বালানী > দেশে সৌরবিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

দেশে সৌরবিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ সোলার প্যানেল উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে বিদ্যমান দেশীয় কোম্পানিগুলোর। এরপরও বিদেশ থেকে নি¤œমানের প্যানেল আমদানির কারণে হুমকির মুখে পড়েছে দেশীয় সৌরবিদ্যুৎ শিল্পের ভবিষ্যৎ। অবিলম্বে বিদেশী প্যানেল আমদানি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে এ সম্ভাবনাময় খাত।

গতকাল মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৭ সোলার মডিউল ম্যানুফ্যাকচার্রাস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভায় অতিথি ও আলোচকরা এ কথা বলেন। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সোলার মডিউল ম্যানুফ্যাকচার্রাস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (এসএমএমএবি) সভাপতি মনোয়ার মেজবাহ মঈনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাসটেইনেবল রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’র (¯্রডো) চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম শিকদার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান জোদ্দার, ইডকল’র প্রধান নির্বাহী মাহমুদ মালিক সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এসএমএমএবি’র সাধারণ স¤পাদক গোলাম বাকি মাসুদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মসিউর রহমান, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আনসার উদ্দিন, জিটিএস সোলার’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্থনি হামিদ মৃধা ও মুজিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে এ খাতের বিনিয়োগকারীরা বলেন, বিদেশ থেকে নি¤œমানের সোলার প্যানেল আমদানির কারণে একদিকে জনগণ ঠকছেন অন্যদিকে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। পাশাপাশি এ শিল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর নীতিমালা না থাকায় এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হারসহ বিভিন্ন কারণে সৌর প্যানেল উৎপাদনকারী ৯টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে সরকার দেশের শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে চায়। এটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভবিষ্যত জ্বালানি মিশ্রণে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরকারের লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম চাবিকাঠি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ও সম্প্রসারণে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে সৌর বিদ্যুতের বিপুল চাহিদা রয়েছে। এ শিল্পের বিকাশের জন্য মিরসরাই ও গাইবান্ধায় ২০০০ একর জমি নিয়ে সোলার পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। গ্রীডও নির্মাণ করবে সরকার। সেখানে বেসরকারি উদ্যোক্তারা সহজেই বিনিয়োগ করতে পারবেন। শহর এলাকায়ও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিভিন্ন ভবনের ছাদে বিপুল পরিমাণ সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।

¯্রডো’র চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম শিকদার বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের সবাইকেই সহযোগিতা করতে চায় সরকার। ট্যাক্স মওকুফের যে দাবি উদ্যোক্তারা করছেন, তার যৌক্তিকতা সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে। সরকার এ খাতকে এগিয়ে নিতে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতা করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান জোদ্দার বলেন, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানি নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। প্রত্যন্ত ও গ্রীডবিদ্যুৎহীন এলাকায় বিদ্যুৎসেবা সম্প্রসারনে সৌরবিদ্যুৎ সবচেয়ে ভালো ও উপযোগী মাধ্যম। বাংলাদেশে বাসাবাড়ি, কৃষি ও বাণিজ্যে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমরা সেই সুযোগ এখনও ঠিকমত কাজে লাগাতে পারিনি। সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একদিকে আরো প্রাযুক্তিক উন্নয়ন দরকার অন্যদিকে আর্থিক প্রণোদনাসহ নানা সুবিধা নিশ্চিত করারও প্রয়োজন রয়েছে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার বাড়াতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে আমরা আগ্রহী।

ইডকল’র প্রধান নির্বাহী মাহমুদ মালিক বলেন, উন্নয়নের পূর্বশত টেকসই জ্বালানি সরবরাহ। উন্নত বিশ্ব এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। ভবিষ্যতের জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুৎই সবচেয়ে ভালো পছন্দ। সোলার হোম সিস্টেমে বাংলাদেশ দারুণ সাফল্য পেয়েছে। এরপরও আমাদের ব্যবহৃত জ্বালানির মাত্র এক শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে উৎপাদিত। ২০২১ সালের মধ্যে জ্বালানি মিশ্রণে ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থাকবে বলে সরকার প্রাক্কলন করেছে। সেক্ষেত্রে ২০২১ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে সিংহভাগই হবে সৌরবিদ্যুৎ।

সোলার মডিউল ম্যানুফ্যাকচার্রাস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র সভাপতি মনোয়ার মেজবাহ মঈন বলেন, সরকারের গৃহিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৭ সাল নাগাদ আরও ৩০ লাখ পরিবারকে সৌর বিদ্যু দেয়ার কথা। সৌর প্যানেলের আমদানি বন্ধ না হলে সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে প্রায় ১১শ’ কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাবে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে বছরে সৌর প্যানেলের চাহিদা ৬০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে দেশীয় ৯টি প্রতিষ্ঠানের। অর্থাৎ চাহিদার পুরোটাই যোগান দেয়ার সক্ষমতা দেশীয় উৎপাদনকারীদের রয়েছে। কিন্তু আমদানীকৃত প্যানেলের অসম মূল্যের প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশের সম্ভাবনাময় এ খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে আমদানিকৃত প্যানেলের উপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করতে হবে।

আমদানিকৃত সৌরপ্যানেলের ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শুল্ক ও ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ স¤পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেন তিনি।

সংগঠনের সাধারণ স¤পাদক গোলাম বাকি মাসুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌর বিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দিলেও দেশীয় শিল্পকে রক্ষায় এখনও সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর কোন নীতিমালা তৈরি করা হয়নি। নিজেদের সৌর প্যানেল শিল্প রক্ষায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলো কঠোর আইন করেছে। প্রতিদেশী দেশ ভারত দেশীয় প্যানেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। সে দেশের শতভাগ স্ট্রিট লাইটে তাদের নিজেদের উৎপাদিত সৌর প্যানেলের বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে।

দেশের উৎপাদনকারীদের উৎসাহিত করতে ও এই খাতে নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টিতে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহবান জানান তিনি।

এসএমএমএবি’র সিনিয়র সহসভাপতি মসিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে ও সবুজ অর্থনীতির উন্নয়নে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সৌর বিদ্যুৎ একটি সম্ভাবনাময় খাত। কার্বন নি:সরণ কমাতে ও টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে পারে কার্যকর হাতিয়ার। তাই এই খাতকে বিকশিত করতে এটিকে ‘শুল্কঅব্যাহতি খাত’ হিসেবে বিবেচনা করার দাবি জানান তিনি। (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)

Comments

comments

একই ধরণের সংবাদ