আপনার অবস্থান
মুলপাতা > শিল্প ও খাতসমূহ > তথ্য প্রযুক্তি > দেশের বিপিও খাতের উন্নয়নে কাজ করবে এসিসিএ

দেশের বিপিও খাতের উন্নয়নে কাজ করবে এসিসিএ

স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে দেশের বিপিও খাতের উন্নয়নে কাজ কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (এসিসিএ)।

৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে এসিসিএ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বিপিও খাতের উন্নয়নে পেশাজীবী সংগঠনের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ ঘোষণা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সাধারন সম্পাদক জনাব তৌহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসিসিএ বাংলাদেশের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার – স্ট্র্যাটেজিক রিলেশনস্ জনাব সৈয়দ আসিফ আজিজ।

অনুষ্ঠানে এসিসিএ রিজিওনাল ডিরেক্টর ফর মিডেল ইস্ট নর্থ আফ্রিকা সাউথ এশিয়া (MENASA) জনাব স্টুয়ার্ট ডানলোপ, এসিসিএ বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মহুয়া রশিদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এলআইসিটি প্রকল্পের কম্পোনেন্ট টিম লিডার জনাব সামি আহমেদ, বিশ্ব ব্যাংকের লিড ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিষ্ট সুরাইয়া জান্নাত, বাক্য’র প্রেসিডেন্ট জনাব আহমাদুল হক, বাক্য’র ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব ওয়াহিদুর রহমান শরীফ, বেসিস ডিরেক্টর জনাব উত্তম কুমাল পাল, ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট জনাব রাজীব আহমেদ ছাড়াও আইসিটি, বিপিও এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে সহযোগিতার মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ের বাজারকে সম্প্রসারণ ও গতিশীল করার দিকটি তুলে ধরা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি বলেন, বাংলাদেশ সরকার তৈরি পোশাক খাতের পরবর্তী অগ্রাধিকার হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও বিপিও খাতকে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে ফাইন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিং আউটসোর্সিং বিপিও খাতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি আরো বলেন, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সমন্বেেয় দেশের বিপিও খাতকে আরো সম্প্রসারণ ও গতিশীল করা সম্ভব।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালনাধীন ফাইন্যান্স সার্ভিসকে নৈতিক, দক্ষ ও কার্যকর করা অত্যাবশ্যক।

এসিসিএ রিজিওনাল ডিরেক্টর ফর মিডেল ইস্ট নর্থ আফ্রিকা সাউথ এশিয়া (MENASA) জনাব স্টুয়ার্ট ডানলোপ বলেন, বিপিও খাতে বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এবং তাদের সেই সামর্থও রয়েছে। মানব দক্ষতা ও ব্যবসার পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে বসে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা ও কাজ করার বড় একটি সুযোগ এই বিপিও শিল্প।

এসিসিএ বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মহুয়া রশিদ বলেন, বিশ্বব্যাপি বিপিও এবং শেয়ার্ড সার্ভিস ক্ষেত্রে কাজ করার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে এসিসিএ’র। বিপিও’র জন্য বিশেষায়িত যোগ্যতাও এসিসিএ ইতোমধ্যে অর্জন করেছে।”

তিনি আরো বলেন, শীর্ষ বিপিও খাতের দেশ শ্রীলঙ্কা, ভারত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্যসহ সাব সাহারান আফ্রিকার আরো কিছু দেশের বিপিও খাতের জন্য শক্তিশালী জনবল তৈরিতে কাজ করেছে এসিসিএ। স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে দেশের বিপিও খাতের উন্নয়নেও কাজ করবে এসিসিএ।

অ্যাকাউন্টিং বিপিও খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা : গ্লোবাল ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট, বিপিও খাতের উন্নয়নে এসিসিএ সদস্য ও প্রফেশনাল নেটওয়ার্কের ভূমিকা, ফাইন্যান্স অ্যাকাউন্টিং আউটসোর্সিংয়ে শিল্প দক্ষতার (ইন্ডাস্ট্রি এক্সপেরিয়েন্স) ভূমিকা শীর্ষক বিষয়ে আলোচনার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জনাব সৈয়দ আসিফ আজিজ, এসিসিএ।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সভাপতি জনাব আহমাদুল হক বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে জনবল। বাজার দখল করতে হলে আমাদেরকে বিপিও খাতের জন্য আরো দক্ষ ও যোগ্য জনবল তৈরি করতে হবে।

বাক্যর ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব ওয়াহিদুর রহমান শরীফ বলেন, বিপিও’র আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি আছে। আমাদের দেশীয় বাজারও প্রসারিত হচ্ছে। আমাদের এখন প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের বিপিও শিল্পের সম্প্রসারণে এসিসিএ এগিয়ে এসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাক্যর সাধারন সম্পাদক জনাব তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্যান্য ইমার্জিং দেশের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক খরচ হওয়ায়, বিপিওকে বাংলাদেশ সরকারের সম্ভাবনাসূচক খাত হিসেবে ঘোষণা দেয়ায় এবং সময় পরিমন্ডলের (টাইম জোন) হিসেবে ভৌগলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকায় বিশ্বব্যাপি বিপিও খাতকে নিজেদেও দখলে আনার মত সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।

তিনি আরো বলেন, ফাইন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিং আউটসোর্সিং সার্ভিসের জন্য বিপিও একটি বড় খাত হবে এবং ক্লায়েন্ট, বিশেষকরে বিদেশী ক্লায়েন্টরা প্রফেশনালদের কাছ থেকেই সেবা পেতে চাইবে।

গোলটেবিল বৈঠকে নিয়োগদাতা ও বিপিও প্রতিষ্ঠানে এসিসিএ’র বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। দেশের বিপিও শিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশি বিপিও নিয়োগদাতাদের জন্য এসিসিএ কীভাবে প্লাটফর্ম তৈরি করতে পারে সে বিষয়ও আলোচনা করা হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে আলোচিত অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ছিল – অন্যান্য দেশে এসিসিএ ও বিভিন্ন সরকারি অংশীদারিত্বের অবস্থা, বিপিও নিয়োগদাতাদের জন্য এসিসিএ’র  প্রযুক্তিগত দক্ষতা সহায়তা, অন্যান্য দেশে এসিসিএ সার্টিফায়েড বিপিও প্রফেশনাল নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ ও তাদের সংখ্যা, স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে দেশের বিপিও খাতের উন্নয়নের বিভিন্ন মাধ্যম, সরকারের বিপিও খাত উন্নয়ন পরিকল্পনায় এসিসিএ’র অংশগ্রহণ ও স্বীকৃতি, নিয়োগদাতা/ ক্লায়েন্টের চাহিদা পূরণের উপযোগীতা, কার্যকর জনবল তৈরিতে পেশাদার ব্যক্তি ও সংগঠনের করণীয় ইত্যাদি।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জাতীয় অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে পেশাজীবীদের ভূমিকা ও অবদান।

বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও)

বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও হচ্ছে এমন এক ধরনের আউটসোর্সিং যেখানে কোন একটি নির্দিষ্ট ব্যবসা প্রক্রিয়ার (বিজনেস প্রসেস) পরিচালনা ও দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষ কোন সেবা প্রদানকারীর সাথে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে করিয়ে নেয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে, এটা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ছিল যেমন কোকা-কোলা তার সাপ্লাই চেইনের বৃহৎ অংশই আউটসোর্স করে থাকে।

বিপিও সাধারণত দুই ধরনের – ব্যাক অফিস আউটসোর্সিং এবং ফ্রন্ট অফিস আউটসোর্সিং। ব্যাক অফিস আউটসোর্সিংয়ের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ব্যবসা কার্যক্রম যেমন মানবসম্পদ, ফাইন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিং ইত্যাদি। ফ্রন্ট অফিস আউটসোর্সিংয়ের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ক্রেতাসম্পর্কীয় সেবা যেমন কন্ট্যাক্ট সেন্টার সার্ভিসেস।

বাংলাদেশে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও)

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ ও তার প্রতিবেশী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন এবং চীনে অতিরিক্ত জনসংখ্যা রয়েছে যা দেশের বাড়তি চিন্তার কারণ হিসেবে পরিণত হয়েছে। এই বৃহৎ জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।

প্রতি বছর গ্রাজুয়েশন শেষ করে লক্ষ লক্ষ তরুন সমাজ কাজ করতে চাচ্ছে, সে লক্ষ্যে জ্ঞানভিত্তিক বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং) হতে পারে বাংলাদেশের টার্গেট মার্কেট। যার মাধ্যমে শিক্ষিত তরুন সমাজ হতাশার গ্লানি দূর করে আর্থসামাজিক সমাজ বিনির্মানে এগিয়ে আসবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে মাত্র ২৫ হাজারের মত লোক বিপিও খাতের সাথে জড়িত আছে।

বিশ্বব্যাপি ক্রমবর্ধমান খাত বিপিও শিল্পের চাহিদা ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইন বিশ্বব্যাপী বিপিও শিল্পকে নেতৃত্ব দিচ্ছে যাদের মার্কেট আকার যথাক্রমে ৮০ বিলিয়ন ডলার, ২ বিলিয়ন ডলার ও ১৬ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্বব্যাপি বিপিও খাতকে নিজেদেও দখলে আনাতে নিম্নোক্ত সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের-

  • অন্যান্য ইমার্জিং দেশের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক খরচ
  • বিপিওকে বাংলাদেশ সরকারের সম্ভাবনাসূচক খাত হিসেবে ঘোষণা দেয়া
  • সময় পরিমন্ডলের (টাইম জোন) হিসেবে ভৌগলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা

ফাইন্যান্স অ্যাকাউন্টিং আউটসোর্সিং এবং এসিসিএ

বিশ্বব্যাপি বিপিও এবং শেয়ার্ড সার্ভিস ক্ষেত্রে কাজ করার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে এসিসিএ’র। বিপিও’র জন্য বিশেষায়িত যোগ্যতাও এসিসিএ ইতোমধ্যে অর্জন করেছে।

শীর্ষ বিপিও খাতের দেশ শ্রীলঙ্কা, ভারত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্যসহ সাব সাহারান আফ্রিকার আরো কিছু দেশের বিপিও খাতের জন্য শক্তিশালী জনবল তৈরিতে কাজ করেছে এসিসিএ। স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে দেশের বিপিও খাতের উন্নয়নেও কাজ করবে এসিসিএ।(সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)

Comments

comments

একই ধরণের সংবাদ