আপনার অবস্থান
মুলপাতা > কর্পোরেট নিউজ > ঢাকার নাহিদ সুলতানা সেরা রন্ধনশিল্পী-২০১৭ নির্বাচিত

ঢাকার নাহিদ সুলতানা সেরা রন্ধনশিল্পী-২০১৭ নির্বাচিত

উত্তেজনাপূর্ণ গ্র্যান্ড ফিনালে ঢাকা বিভাগের নাহিদ সুলতানা মিজান-মালয়েশিয়ান পাম অয়েল সেরা রন্ধনশিল্পী-২০১৭ নির্বাচিত হয়েছেন। রংপুর বিভাগের হুমায়রা বিনতে শাফি এবং সায়মা হাসান যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় রানার আপ ট্রফি লাভ করেছেন।

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রন্ধনশিল্প প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতাটি গ্র্যান্ড ফিনালে গতকাল শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর এটিএন বাংলায় সম্প্রচারিত হয়। পূর্বের ১২টি এপিসোডও দর্শকরা একই চ্যানেলে প্রতি শুক্রবার উপভোগ করেন।

প্রাধনমন্ত্রীর মিডিয়াবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতার উজ জামান খান কবির, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ড. মো. নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিডের বিপণন ব্যবস্থাপক ফয়সাল মাহমুদ এবং দি বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনালে বক্তব্য রাখেন। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট কর্পোরেট ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অংশগ্রহণের জন্য প্রাথমিক নির্বাচনের পর্বে এবার দুই হাজারের অধিক প্রতিযোগী পাঁচ হাজারের বেশি রেসিপি প্রেরণ করেন। এর মধ্যে থেকে ৩২ জনকে রিয়েলিটি শো’তে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ফাইনাল রাউন্ডে পৌঁছাতে প্রতিযোগীদের বিভিন্ন পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। ফাইনাল রাউন্ডে প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হন ঢাকার নাহিদ সুলতানা এবং মোর্শেদা নাহার, রংপুরের সায়মা হাসান এবং হুমায়রা বিনতে শাফি ও সিলেটের সাজেদা রুমা।

বিচারক প্যানেলে ছিলেন বিশিষ্ট রন্ধন বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদ কল্পনা রহমান, লবি রহমান, নাফিস ইসলাম লিপি, তাহেরা ওয়াহিদ, নূর আয়েশা চাকলাদার। এছাড়াও পেশাদার শেফ ন্যাশনাল হোটেল এন্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ফুড এন্ড বেভারেজ বিভাগের প্রধান জাহেদা বেগম, লা মেরিডিয়ান ঢাকা হোটেলের এক্সিকিউটিভ স্যু শেফ জুলিয়ান শিতল বটলেরো ও রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের স্যু শেফ জেমস রোজারিও।

গ্র্যান্ড ফিনালে ফাইনালিস্টদের “কুইক বাইট” শীর্ষক একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়। এতে আয়োজক কর্তৃক সরবরাহকৃত বিভিন্ন উপাদান ও উপকরণ ব্যবহার করে তারা তাৎক্ষণিকভাবে একটি ডিস তৈরি করেন।

বিচারকার্য পরিচালনা করেন প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার পল ফ্লেট, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতার উজ জামান খান কবির এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ড. মো. নাসির উদ্দিন।

প্রতিযোগিতার বিজয়ী ৩৩ বছর বয়স্ক যিনি মূলত একজন গৃহিণী তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই সম্মানজনক ট্রফিটি জেতা ছিল আমার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন, আজকে বাস্তবায়িত হলো। বিগত বছরগুলোতে অব্যাহত সহযোগিতা অনুপ্রেরণা প্রদানের জন্য আমি আমার পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ।’

তিনি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ‘বর্তমানে আমি ক্ষুদ্র পরিসরে একটি রান্নার স্কুল পরিচালনা করছি। ভবিষ্যতে একটি কুলিনারি ইনস্টিটিউট এবং একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। আজকের এই স্বীকৃতি আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি।’

প্রতিযোগিতার প্রথম রানার আপ হুমায়রা বিনতে শাফি শ্রেষ্ঠ পুষ্টিজ্ঞানের জন্য সম্মানজনক ‘অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবির ট্রফি’ লাভ করেন। উল্লেখ্য, প্রখ্যাত এই পুষ্টিবিদের প্রতি শ্রদ্ধার নিদরর্শন স্বরূপ বাংলাদেশ মনিটর ২০১৩ সালে এই ট্রফি প্রবর্তন করে।

দি বাংলাদেশ মনিটর ২০০৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে প্রতি বছর সেরা রন্ধনশিল্পীর আয়োজন করে আসছে। এবারের ১৩তম আসরটির মূল স্পন্সর ছিল মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিল এবং মিজান ফর্টিফাইড পাম অলিনের বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড।

ন্যাশনাল হোটেল এন্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, শরিফ কিচেন স্টার, মীনা বাজার এবং প্রেমস কালেকশনস পার্টনার প্রতিষ্ঠান হিসেবে সহযোগিতা প্রদান করে। গ্র্যান্ড ফিনালের হসপিটালিটি পার্টনার ছিল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল। এটিএন বাংলা ও দি বাংলাদেশ মনিটর যৌথভাবে রিয়েলিটি শোটি উপস্থাপন করে।

সেরা রন্ধনশিল্পী প্রতিযোগিতা-২০১৮ খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে এবং এই জনপ্রিয় টিভি রিয়েলিটি শো’তে অংশগ্রহণের জন্য রন্ধনশিল্পীদের কাছ থেকে রেসিপি আহ্বান করা হবে।

Comments

comments

একই ধরণের সংবাদ