আপনার অবস্থান
মুলপাতা > কর্পোরেট নিউজ > এটুআই, মাস্টারকার্ড ও ব্যাংক এশিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

এটুআই, মাস্টারকার্ড ও ব্যাংক এশিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

দেশব্যাপী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোর (ইউডিসি) মাধ্যমে ব্যাংকিং-সেবা-বহির্ভূত বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দিতে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই/ a2i), মাস্টারকার্ড ও ব্যাংক এশিয়া একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

দেশের গ্রামাঞ্চলে ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দিতে এই সমঝোতা স্মারক সই করা হয়।

রাজধানী ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ ৩০ অক্টোবর সোমবার, ২০১৭ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ম্যানেজার জনাব সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আরফান আলী। এ সময় প্রতিষ্ঠান তিনটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি বর্তমান সরকারের ২০২১ সাল নাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার রুপকল্প বাস্তবায়নে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমঝোতা স্মারকটির আওতায় এটুআই ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের ব্যাংক এশিয়া’র এজেন্ট ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মকে সহায়তা প্রদান করবে।

ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড এক্ষেত্রে মাস্টারকার্ড ব্যবহার করে উক্ত সেবা প্রদান করতে পারবে। এভাবে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে সহায়তা করবে এটুআই। এটুআই দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সাথে আর্থিক সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সংযোগ ঘটিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দরিদ্রমুখী প্রযুক্তিভিত্তিক আর্থিক সেবা কার্যক্রমও জোরদার করবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম ও ব্যাংক এশিয়ার সহায়তায় দেশব্যাপী ডিজিটাল-পেমেন্ট ইকোসিস্টেম বা অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এই সেবা চালু ও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল নলেজ বা ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেবে মাস্টারকার্ড।

ব্যাংক এশিয়ার এজেন্টদের জন্য একটি সর্বজনীন লেনদেন বা অর্থ স্থানাস্তর ব্যবস্থা উদ্ভাবনের মাধ্যমে সেবাটি নিশ্চিত করা হবে, যাতে তাঁরা ইউডিসিগুলোর সাথে সমন্বয়ের ভিত্তিতে সুন্দরভাবে কাজ করতে পারে। এ ছাড়াও মাস্টারকার্ড নির্দিষ্ট চুক্তির আওতায় মাস্টারকার্ড কো-ব্র্যান্ডেড পেমেন্ট কার্ড চালুর বিষয়ে এটুআই এবং ব্যাংক এশিয়াকে সহযোগিতা করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক জনাব কবির বিন আনোয়ার বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করলে সরকারি সেবার মান যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি জনগণের বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগণের সরকারি সেবা পেতে সময়, খরচ ও যাতায়াত সংখ্যাও কমবে। এই সমঝোতা স্মারক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা-বহির্ভূত বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সাথে এই স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি বর্তমান সরকারের রূপকল্প – ২০২১ বাস্তবায়নে অবদান রাখবে।’

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জনাব সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, “এটুআই (a2i) ও ব্যাংক এশিয়ার সাথে এই ত্রিপাক্ষিক চুক্তি, মাস্টারকার্ডের প্রবৃত্তিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে যা, ব্যাংকিং সেবা বহির্ভূত জনগোষ্ঠীর হাতে বিশদ পরিসরের পেমেন্ট অপশন তুলে দিতে এবং সেসকল মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মাস্টারকার্ডের অভিনব প্রযুক্তি এবং নতুন উদ্ভাবনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে সহায়তা করবে। এই প্রকল্পের সহযোগী হতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত এবং আশাবাদ ব্যাক্ত করছি বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের সাথে বহু পথ একসাথে চলার যেখানে আমরা আমাদের আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল অনুদান ও ভাতা প্রদানে সহায়তা করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি মাস্টারকার্ডের একটি মুখ্য প্রবৃত্তি এবং সারা বিশ্বে বিভিন্ন দেশের সরকারের সাথে নানাবিধ উদ্ভাবনী পেমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে একত্রে কাজ করছে লেস ক্যাশ সোসাইটির এই যাত্রাপথে ব্যাংক এশিয়াকে আমাদের সাথে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”

ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জনাব মোঃ আরফান আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘‘এই চুক্তিটি দেশের প্রতিটি জনগণের একটি করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকার অধিকার নিশ্চিত করবে এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের এই যৌথ প্রচেষ্টা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির ইতিবাচক পরিবর্তনে সাধন করবে এবং বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’’

Comments

comments

একই ধরণের সংবাদ