আপনার অবস্থান
মুলপাতা > কর্পোরেট নিউজ > কোকা-কোলা ও তাদের সহযোগীদের লক্ষ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সমুদ্র সৈকত

কোকা-কোলা ও তাদের সহযোগীদের লক্ষ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সমুদ্র সৈকত

বিশ্বব্যাপী পার্টনারশিপের অংশ হিসাবে কোকা-কোলা বাংলাদেশ ওশান কনজারভেন্সির কান্ট্রি কোঅরডিনেটর কেওক্রাডং বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকতকে পরিচ্ছন্ন এবং দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে। কেওক্রাডং এর সহযোগিতায় কোকা-কোলা বাংলাদেশ সমুদ্র ও জলপথকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছে।

এই অংশীদারিত্বের মূল উদ্দেশ্যে হলো সমুদ্রের পানি দূষণমুক্ত রাখার জন্য যথোপযুক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করা ও তার সাথে মানুষকে যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অবগত করার মাধম্যে সমূদ্র দূষণ প্রতিরোধে কাজ করা।

বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ৩১তম ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ উপলক্ষে দুটি অর্গানাইজেশন দিনব্যাপী সমুদ্র সৈকত পরিষ্কারে অংশ নিয়েছে। এটি এই দুটি অর্গানাইজেশনের একসাথে টানা ৭ম বছরের পথচলার ধারাবাহিকতা।

ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সে^চ্ছাসেবী প্রয়াস। এই উদ্যোগ হাজার হাজার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে সমুদ্র সৈকত, লেক ও জলপথ থেকে মিলিয়ন পাউন্ডের আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে।

গত সাত বছরে কোকা-কোলা বাংলাদেশ এবং কেওক্রাডং বাংলাদেশ এর সহায়তায় ৩৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবী সেন্ট মার্টিন থেকে ৮,৪০০ কেজি সামুদ্রিক আবর্জনা পরিষ্কার করেছে।

এই বছরের কোস্টাল ক্লিনআপের শ্লোগান ছিল ”পিক ইট আপ, ক্লিন ইট আপ, সি চেঞ্জ”। এতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সারাদেশ থেকে আগত শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং পেশাজীবিরা অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

স্বেচ্ছাসেবীরা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা জমা করে। স্বেচ্ছাসেবীদের মূল লক্ষ্য ছিল অপচনশীল আবর্জনা সংগ্রহ করা। এর মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার ইত্যাদি।

সংগ্রহীত আবজর্নাসমূহের তথ্য সংগ্রহ করে তা ওশান কনজারভেন্সির এর ট্র্যাশ ডাটাবেস-এ আপলোড করা হয়। আবজর্না সংগ্রহের পরদিন স্থানীয় স্কুলের শির্ক্ষাথীদের মধ্যে সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা বিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা সম্বলিত খাতা বিতরণ করা হয়।

স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংস্থার পেশাজীবিরা উপস্থিত ছিলেন। ফেলে দেয়া আর্বজনাই সমুদ্র দূষণের মূল কারণ; কেবল মাত্র সেন্ট মার্টিনের স্থানীয় মানুষ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পর্যটকদের ব্যবহারগত পরিবতর্নের মাধ্যমেই এই দূষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এই অভিযানে যেসকল সে^চ্ছাসেবী অংশ নিয়েছেন; তারা দূষণ কমানোর এই সতর্কতা তাদের পরিচিত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ সহযোগিতা করবেন বলে প্রত্যাশা করেছেন আয়োজকরা।

কোকা-কোলার নির্মল পরিবেশের অঙ্গীকার এবং এই কার্যক্রমের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপকে নির্বাচন করার কারণ সম্পর্কে কোকা-কোলা বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাদাব খান বলেছেন, “সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য অকল্পনীয় এবং এর ফলে এখানে অনেক ট্যুরিষ্ট আকৃষ্ট হন। যা অনেক সময়ই এখানকার সংবেদনশীল ইকো সিস্টেমের ব্যাঘাত ঘটায়। গত ছয় বছরের মত এই বছরেও ট্যুরিষ্ট, স্থানীয় জনগন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আমরা কোস্টাল ক্লিনআপ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা আশাকরি আমাদের বিশ্বব্যাপী প্রতিশ্রুত দূষণমুক্ত পানি, সবুজ, পরিষ্কার ও টেকসই পরিবেশের অঙ্গীকার পূরণে আরো সক্ষম হবো।”

Comments

comments

একই ধরণের সংবাদ