আপনার অবস্থান
মুলপাতা > কর্পোরেট নিউজ > কোকা-কোলার সামাজিক উন্নয়ন উদ্যোগ এর সাথে ব্যাংক এশিয়ার পার্টনারশিপ

কোকা-কোলার সামাজিক উন্নয়ন উদ্যোগ এর সাথে ব্যাংক এশিয়ার পার্টনারশিপ

কোকা-কোলা বাংলাদেশ ২০১৫ সালে বাংলাদেশের গ্রামীন নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ তৈরির লক্ষ্যে ইউনাইটেড পারপাসের সহযোগিতায় উইমেন বিজনেস সেন্টার (ডব্লিউবিসি) প্রকল্প শুরু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামের নারীদের ব্যাক্তিগত উপার্জন কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত করা ও সমাজে অন্যান্য নারীদের উপার্জনমূখী করার জন্য বিভিন্ন রকম উদ্যোগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি ২০১৫ থেকে আজ অবধি বাংলাদেশের জামালপুর, খুলনা, বাগেরহাট জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ৪০,০০০ নারী উদ্যোক্তার উন্নয়নে অবদান রেখেছে। এখন থেকে ব্যাংক এশিয়া ডব্লিউবিসি প্রকল্পে উদ্যোক্তাদের এজেন্ট ব্যাংকিং শিক্ষা প্রদান করবে, যারা ব্যাংকিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আর্থিক ও ব্যাংকিং সেবা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়া।

সম্প্রতি ব্যাংক এশিয়া ও কোকা-কোলা বাংলাদেশের এই উদ্যোগের সূচনা করার জন্য উইমেন বিজনেস সেন্টার প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত ২৫ জন সফল নারী উদ্যোক্তাদের কোকা-কোলা তার ময়মনসিংহের ভালুকা কারখানায় আমন্ত্রণ জানায়। ব্যাংক এশিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ তাদেরকে এই এজেন্ট ব্যাংকিং বিষয়ে প্রশিক্ষন প্রদান করেন।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা জামালপুর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা খুলনা ও বাগেরহাটে ২০টি বিজনেস সেন্টার চালুর মধ্য দিয়ে কোকা-কোলা বাংলাদেশের উইমেন বিজনেস সেন্টার প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় ৪০টি কেন্দ্র রয়েছে, যার মাধ্যমে ৪০,০০০ নারী উদ্যোক্তাকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ, তথ্য প্রদান, বাজার চাহিদা ও মধ্যম এবং বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসূত্র তৈরি করতে সহায়তা করা হয়েছে।

বর্তমানে ডব্লিউবিসি প্রকল্পটির সাথে জড়িত নারী উদ্যোক্তাদের আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাংক এশিয়াকে সম্পৃক্ত করে কার্যক্রম শুরু হলো। সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল বেভারেজ প্রাইভেট লিমিটেডের (আইবিপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাপস কুমার মন্ডল; ব্যাংক এশিয়ার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়রা আজম এবং ইউনাইটেড পারপাসের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর কেট হার্টলিসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এই ট্রেনিংয়ের মূল উদ্দেশ্যে হলো নারী উদ্যোক্তাদের এজেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কে অবগত করা এবং ১০টি ডব্লিউবিসিতে এজেন্ট ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করে ডব্লিউবিসি এর ১,০০০ জন নারী এই সুবিধার মাধ্যমে তাদের পণ্যগুলো ক্রয় এবং বিক্রয় করতে পারেন। ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড একটি এজেন্ট ব্যাংকিং স্কিম চালু করেছে যাতে করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের উৎপাদনকারীরা এবং অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র এবং মধ্যম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই আর্থিক সেবা পেতে পারেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সব নারী উদ্যোক্তারা জামালপুর জেলা থেকে আগত। কোকা-কোলার ভালুকার কারখানাটি চালুর পর এই প্রথম দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের নারী উদ্যোক্তারা কারখানাটি পরিদর্শনের সুযোগ পেলেন। এটি ছিল গ্রামীণ নারীদের জন্য একটি অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। তারা প্রথমবারের মতো কোকা-কোলার কারখানায় কীভাবে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে কোমলপানীয়ের উৎপাদন করা হয় তার প্রক্রিয়া দেখার দুর্লভ সুযোগ পান। এ সময়ে তাদের জানানো হয়, কীভাবে কাঁচামাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত কোমলপানীয় তৈরি করা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল বেভারেজ প্রাইভেট লিমিটেডের (আইবিপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাপস কুমার মন্ডল বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাপী ৫০ লাখ প্রান্তিক নারীর জন্য আগামী ২০২০ সাল নাগাদ অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কোকা-কোলা ফাইভ বাই টোয়েন্টি গ্লোবাল ভিশন চালু করে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের নারী কর্মীরা কর্মস্থলে ও পরিবারে ভারসাম্যের সুযোগ এবং আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অব্যাহতভাবে কঠিন প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থাকেন। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষণের সুযোগের ঘাটতি যেমন রয়েছে, তেমনি আস্থার ঘাটতিও আছে। সে জন্য কোকাকোলা প্রত্যন্ত গ্রামের নারীদের স্বাবলম্বী করতে সবসময়ই সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফাইভ বাই ২০ মডেলের আওতায় উইমেন বিজনেস সেন্টার (ডব্লিউবিসি) নামে গ্রামের নারীদের আমরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রশিক্ষণ সেবা দিচ্ছি। ব্যাংক এশিয়া ডব্লিউবিসি এর নারী উদ্যোক্তাদের তাদের ব্যাংকের এজেন্ট হতে এবং আর্থিক সেবার মাধ্যমে তাদের কমিউনিটির অর্থনীতিকে সমর্থন দিচ্ছে। ডব্লিউবিসিকে নির্বাচিত করায় আমি ব্যাংক এশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।

ব্যাংক এশিয়ার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়রা আজম বলেন, ‘‘এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে জড়িত হওয়া এসব নারী এখন থেকে আমাদের ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করবে। ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট হিসেবে তাঁরা ভালো আয়-উপার্জন করতে পারবেন। কারণ এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁরা যত বেশি লেনদেন করতে পারবেন তত বেশি কমিশন পাবেন। ব্যাংক এশিয়া এসব নারীর জীবনে পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখতে চায়; যাতে তাঁরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে নিতে পারেন। আমরা খুব শিগগির এসব নারীর হাতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স তুলে দেব। আমরা আশা করি, এই অংশীদারিত্ব আমাদের দুই পক্ষের জন্যই ফলপ্রসূ ও লাভজনক হবে।’’

Comments

comments

একই ধরণের সংবাদ